জীবনসঙ্গী নিয়ে ইসলামিক উক্তি: আমরা জীবনের চলার পথে একজন বিশ্বস্ত সঙ্গীর খোঁজ করি, যে কেবল সুসময়ে পাশে থাকবে না বরং দুঃসময়েও আল্লাহর প্রতি আমাদের বিশ্বাসকে মজবুত করবে। বর্তমানের অস্থির সময়ে একজন ‘দ্বীনদার জীবনসঙ্গী’ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
অনেকেই জানতে চান, ইসলামে জীবনসঙ্গী নিয়ে কী বলা হয়েছে কিংবা একজন আদর্শ জীবনসঙ্গীর গুণাবলী কী হওয়া উচিত। আজকের ব্লগে আমরা শেয়ার করছি দ্বীনদার ও উত্তম জীবনসঙ্গী নিয়ে কিছু ইসলামিক উক্তি ও স্ট্যাটাস, যা আপনার চিন্তাধারাকে সুন্দর করবে এবং দাম্পত্য জীবনের প্রকৃত সার্থকতা বুঝতে সাহায্য করবে।
জীবনসঙ্গী নিয়ে ইসলামিক উক্তি
“উত্তম জীবনসঙ্গী শুধু ভালোবাসে না, বরং ঈমান রক্ষা করতেও সাহায্য করে।“
“দাম্পত্য জীবনে প্রকৃত সুখ আসে তখনই, যখন দু’জনই আল্লাহর বিধানকে অগ্রাধিকার দেয়।“
📌আরো পড়ুন👉মেয়ে পটানোর নতুন রোমান্টিক স্ট্যাটাস
“ইসলাম অনুযায়ী জীবনসঙ্গী সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময়ও আল্লাহকে ভুলে যায় না।“
“যে জীবনসঙ্গী তোমাকে নামাজের দিকে ডাকে, সে-ই তোমার প্রকৃত ভালোবাসার মানুষ।“
“দ্বীনদার জীবনসঙ্গী দুনিয়ার পরীক্ষায় ধৈর্য শেখায় এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুত করে।“
“আল্লাহভীরু স্বামী বা স্ত্রীর সাথে জীবন কাটানো মানে জান্নাতের পথে একসাথে হাঁটা।“
“ইসলাম বলে—জীবনসঙ্গীর সৌন্দর্যের চেয়ে তার তাকওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।“
“যে জীবনসঙ্গী আল্লাহর হুকুম মানে, সে সংসারেও ন্যায় ও ভালোবাসা কায়েম করে।“
“উত্তম দাম্পত্য জীবন গড়ে ওঠে তখনই, যখন দু’জনেই আল্লাহর সন্তুষ্টিকে লক্ষ্য বানায়।“
“দ্বীনদার জীবনসঙ্গী ভুল করলে ক্ষমা করতে জানে, কারণ সে আল্লাহর বিচারকে ভয় করে।“
“যে স্ত্রী বা স্বামী আল্লাহর কাছে তোমার জন্য দোয়া করে, সে তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় আমানত।“
“ইসলামিক দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি হলো ঈমান, আমল ও সুন্দর চরিত্র।“
“যে জীবনসঙ্গী তোমার ঈমান বাড়ায়, সে তোমার জীবনের আশীর্বাদ।“
“আল্লাহভীত জীবনসঙ্গী সম্পর্ককে অধিকার নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখে।“
“উত্তম জীবনসঙ্গী ঝগড়ায় জিততে চায় না, বরং সম্পর্ক বাঁচাতে চায়।“
“ইসলাম শিক্ষা দেয়—দ্বীনদার জীবনসঙ্গী কখনো প্রতিশোধপরায়ণ হয় না।“
“আল্লাহভীরু স্বামী বা স্ত্রী সংসারকে ইবাদতের জায়গা বানিয়ে তোলে।“
“যে জীবনসঙ্গী তোমার দোষ ঢেকে রাখে, সে রাসূল ﷺ–এর সুন্নাহ অনুসরণ করে।“
“দ্বীনদার জীবনসঙ্গী কষ্টের সময় ধৈর্য ধরে এবং সুখের সময় কৃতজ্ঞ থাকে।“
“ইসলাম বলে—উত্তম জীবনসঙ্গী সেই, যে তোমার ঈমান ও সম্মান দুটোই রক্ষা করে।“
“যে জীবনসঙ্গী আল্লাহর বিধান মেনে চলে, তার সাথে সম্পর্ক নিরাপদ থাকে।“
“দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো পারস্পরিক তাকওয়া।“
“আল্লাহভীরু জীবনসঙ্গী দুনিয়ার ভালোবাসাকে আখিরাতের সফলতার পথে নিয়ে যায়।“
“উত্তম জীবনসঙ্গী তোমাকে পাপ থেকে দূরে রাখে এবং নেক আমলে উৎসাহ দেয়।“
“যে জীবনসঙ্গী আল্লাহকে ভালোবাসে, সে তোমাকেও সীমার মধ্যে ভালোবাসে।“
“দ্বীনদার জীবনসঙ্গীর কাছে সম্পর্ক মানে আমানত, খেলনা নয়।“
“উত্তম জীবনসঙ্গী নিজের অধিকারের চেয়ে দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেয়।“
“আল্লাহভীরু স্বামী বা স্ত্রী সম্পর্কের প্রতিটি ধাপে ন্যায়বিচার বজায় রাখে।“
“যে জীবনসঙ্গী তোমার আখিরাতের কথা ভাবে, সে-ই তোমার প্রকৃত সঙ্গী।“
“দাম্পত্য জীবনের বরকত আসে তখনই, যখন তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠে।“
“উত্তম জীবনসঙ্গী হওয়া মানেই একে অপরকে জান্নাতের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করা।“
জীবনসঙ্গী নিয়ে হাদিস
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলো, যিনি তার স্ত্রীদের প্রতি সর্বোত্তম আচরণ করে।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “সবচেয়ে উত্তম তোমাদের মধ্যে, যিনি তার পরিবারকে ভালভাবে আচরণ করে।” (ইবনু মাজাহ)
📌আরো পড়ুন👉ইসলামে নারীর মর্যাদা নিয়ে উক্তি
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “নারীর প্রতি সদয় হওয়া মু’মিন পুরুষের বৈশিষ্ট্য।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “একজন ধার্মিক নারী বাছাই কর, সে তোমার ঈমানকে মজবুত করবে।” (বুখারি, মুসলিম)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “নারীর জন্য দেখা উচিত তার চারিত্রিক গুণাবলী এবং ঈমান।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “সবচেয়ে ভালো স্ত্রী হলো, যিনি তার স্বামীর জন্য শান্তি, স্নেহ ও প্রার্থনা নিয়ে থাকে।” (বুখারি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “নারীকে বেছে নাও তার ধর্ম এবং চরিত্রের জন্য, ধন বা সৌন্দর্যের জন্য নয়।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “সৎ ও ধার্মিক স্ত্রী স্বামীর জন্য জান্নাতের খোদা।” (ইবনু মাজাহ)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে যিনি তার পরিবারের প্রতি সদয়, আল্লাহ তার নেক আমল বৃদ্ধি করেন।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ধর্মভীরু পুরুষের জন্য ধর্মভীরু স্ত্রী উত্তম।” (বুখারি, মুসলিম)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের দ্বার খুলবেন।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “নারীর প্রতি সদয় হওয়া মুসলিম পুরুষের ঈমানকে পূর্ণ করে।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীর প্রতি ন্যায্য না হলে তার নাম কৃতজ্ঞতার সঙ্গে লেখা হয় না।” (বুখারি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ব্যক্তি হলো, যিনি তার পরিবারকে ভালোবাসে এবং সম্মান করে।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “স্ত্রীর প্রতি সদয় আচরণ মুসলিম পুরুষের জন্য সওয়াবের বড় উৎস।” (মুসনাদ আহমাদ)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে শান্তিপূর্ণ আচরণ করে, আল্লাহ তাকে শান্তির সঙ্গে পুরস্কৃত করবেন।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ধার্মিক স্ত্রী বাছাই কর, সে তোমার ঈমানের সহায়ক হবে।” (বুখারি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “একজন ভালো স্ত্রী তার স্বামীর জন্য জান্নাতের উত্স হবে।” (মুসনাদ আহমাদ)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “স্ত্রীর সঙ্গে সদয় আচরণ করা ইসলামের বড় অংশ।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি ভালো, আল্লাহ তার সমস্ত দুঃখ দূর করবেন।” (মুসনাদ আহমাদ)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “সৎ ও ধার্মিক স্ত্রীর সঙ্গে জীবন সহজ হয় এবং আল্লাহর আশীর্বাদ আসে।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে দয়া করে, আল্লাহ তার নেক আমল বৃদ্ধি করবেন।” (বুখারি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “নারীর নৈতিকতা ও ঈমান বিবেচনা করেই তাকে বেছে নাও।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ভালো স্ত্রী হলো যে তার স্বামীকে খুশি রাখে এবং ঈমানের পথে সাহায্য করে।” (মুসনাদ আহমাদ)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যদি তোমাদের কাছে ধন-সম্পদ থাকে, তবে চাও না সৌন্দর্য বা ধন দিয়ে, বরং চাও চরিত্র ও ঈমান।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “স্ত্রীর প্রতি ন্যায্যতা অবলম্বন করা আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায়।” (বুখারি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ধার্মিক স্ত্রী স্বামীকে ঈমানী ও নৈতিকভাবে উন্নত করে।” (মুসনাদ আহমাদ)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “সৎ স্বামী বা স্ত্রী নির্বাচন করুন, কারণ তারা আপনার জীবনের শান্তি।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “একজন মু’মিন পুরুষের জন্য সৎ স্ত্রী সবচেয়ে বড় দায়িত্বপূর্ণ সহচর।” (বুখারি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ভালো স্বামী বা স্ত্রী ঈমানী জীবন ও জান্নাতের পথপ্রদর্শক।” (মুসনাদ আহমাদ)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ভালো স্ত্রী হলো যে তার স্বামীকে খুশি রাখে এবং আল্লাহর পথে পরিচালিত করে।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ধার্মিক জীবনসঙ্গী স্বামী বা স্ত্রীকে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য প্রস্তুত করে।” (বুখারি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ভালো স্ত্রী এবং স্বামী নির্বাচনের মাধ্যমে সুখী পরিবার গঠিত হয়।” (মুসনাদ আহমাদ)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ধার্মিক স্ত্রী স্বামীকে ঈমান ও নৈতিকতায় উন্নত করে।” (তিরমিজি)
“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ভালো জীবনসঙ্গী আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায় এবং আখিরাতে শান্তি দেয়।” (বুখারি)
জীবন সঙ্গী নিয়ে কুরআনের আয়াত
“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আর-রুম, আয়াত: ২১)
“তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়।” (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৮৯)
📌আরো পড়ুন👉অল্প বয়সে বিয়ে নিয়ে ইসলামিক উক্তি
“পবিত্র তিনি, যিনি জমিন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, মানুষকে এবং তারা যা জানে না তাদের প্রত্যেককে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৩৬)
“আর আমি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি।” (সূরা আন-নাবা, আয়াত: ৮)
“আর তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জোড়া থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৭২)
“তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পোশাক এবং তোমরা (স্বামীরা) তাদের পোশাক।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৭)
“পবিত্র নারীরা পবিত্র পুরুষদের জন্য এবং পবিত্র পুরুষরা পবিত্র নারীদের জন্য।” (সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৬)
“পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল, কারণ আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা নিজেদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৪)
“আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু।” (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭১)
“সুতরাং নেককার স্ত্রীরা হয় অনুগত এবং আল্লাহর হিফাজতে (স্বামীর) অনুপস্থিতিতেও তারা (নিজেদের সতীত্ব ও সম্পদ) হিফাজত করে।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৪)
“তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও।” (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩২)
“যদি তারা (বিবাহে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা) দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন।” (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩২)
“আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ করো না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২১)
“আর তোমরা মুশরিক পুরুষদের সাথে তোমাদের নারীদের বিবাহ দিও না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২১)
“মুমিন ক্রীতদাসী মুশরিক নারীর চেয়ে অনেক উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২১)
“যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, আমি তাদের সন্তানদের তাদের সাথে মিলিত করে দেব।” (সূরা আত-তূর, আয়াত: ২১)
“তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীরা সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ করো।” (সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৭০)
“সেদিন তারা এবং তাদের স্ত্রীরা ছায়াযুক্ত স্থানে কেদারায় হেলান দিয়ে বসবে।” (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৫৬)
“যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী, তাকে আমি পবিত্র জীবন দান করব।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯৭)
“তোমরা নারীদের সাথে সদ্ভাবে (উত্তম আচরণে) জীবন অতিবাহিত করো।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৯)
“নারীদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষদেরও তাদের ওপর ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২৮)
“আর যদি তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) অপছন্দ করো, তবে হতে পারে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৯)
“তাদের (নবজাতকের মায়েদের) ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ম অনুযায়ী পিতার ওপর ন্যস্ত।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩৩)
“আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে দিয়ে দাও।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪)
“আর তোমরা একে অপরের প্রতি অনুগ্রহ করতে ভুলে যেও না।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩৭)
“আর তারা যখন আল্লাহর ইবাদত করে, তখন তারা বলে: হে আমাদের রব, আমাদের অপরাধ ক্ষমা করুন এবং আমাদের অন্তরকে শান্ত করুন।” (সূরা আর-রাআদ)
“তারা কি তোমাদের স্ত্রী নয়? যারা তোমাদের জন্য ফসলক্ষেত্র স্বরূপ।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২৩)
উত্তম জীবনসঙ্গী ও নেককার স্ত্রী নিয়ে হাদিস
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সমগ্র দুনিয়াই সম্পদ, আর দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো একজন নেককার স্ত্রী।” (সহীহ মুসলিম: ১৪৬৭)
“কোনো মুমিন পুরুষ কোনো মুমিন নারীকে (স্ত্রীকে) ঘৃণা করবে না। তার একটি অভ্যাস অপছন্দ হলে অন্যটি অবশ্যই পছন্দ হবে।” (সহীহ মুসলিম: ১৪৬৯)
📌আরো পড়ুন👉বন্ধুর বিয়ে নিয়ে ইসলামিক স্ট্যাটাস
“চারটি জিনিস সুখের অন্তর্ভুক্ত: নেককার স্ত্রী, প্রশস্ত ঘর, ভালো প্রতিবেশী এবং আরামদায়ক সওয়ারি।” (সহীহ ইবনে হিব্বান)
“তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর কর্তব্য— যার মধ্যে অন্যতম হলো সে ব্যক্তি, যে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে।” (তিরমিজি: ১৬৫৫)
“যে ব্যক্তিকে আল্লাহ একজন নেককার স্ত্রী দান করেছেন, তাকে তার অর্ধেক দ্বীন পালনে সাহায্য করেছেন।” (তাবারানি)
“যে ব্যক্তি বিয়ে করল, সে তার অর্ধেক ইমান পূর্ণ করল।” (বায়হাকি)
“কুরাইশ বংশীয় নারীদের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা সন্তানের প্রতি অধিক স্নেহশীলা এবং স্বামীর সম্পদের উত্তম হিফাযতকারী।” (সহীহ বুখারি)
“যে নারীর মৃত্যু হলো এমতাবস্থায় যে তার স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিজি)
“নারী যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, তার লজ্জাস্থান হিফাজত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তখন তাকে বলা হবে: জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা তুমি প্রবেশ করো।” (সহীহ ইবনে হিব্বান)
“জান্নাতীদের মধ্যে তোমাদের স্ত্রীদের পরিচয় দিই? তারা হলো স্বামী-বৎসল, অধিক সন্তান প্রসবকারিনী এবং পুনরায় প্রেম স্থাপনকারিনী।” (তাবারানি)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে তার পরিবারের (স্ত্রীর) কাছে উত্তম।” (তিরমিজি: ৩৮৯৫)
“মুমিনদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ইমানদার সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচাইতে সুন্দর এবং যে তার পরিবারের কাছে সবচাইতে দয়ালু।” (তিরমিজি: ১১৬২)
“তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কারণ তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ।” (সহীহ মুসলিম)
“কোনো মুমিন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে যেন গালি না দেয় এবং মারধর না করে।” (সহীহ মুসলিম)
“একজন পুরুষ তার পরিবারের জন্য যা খরচ করে, তা সাদাকা হিসেবে গণ্য হয়।” (সহীহ বুখারি)
“তোমরা স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ গ্রহণ করো।” (সহীহ বুখারি)
“স্ত্রীকে খাবার দিলে আল্লাহ তার জন্য সওয়াব দান করেন, এমনকি এক লোকমা খাবার স্ত্রীর মুখে তুলে দিলেও সওয়াব পাওয়া যায়।” (সহীহ বুখারি)
“স্ত্রীদের প্রতি কেবল সম্মানীরাই সম্মান প্রদর্শন করে, আর যারা নিচ প্রকৃতির তারাই তাদের লাঞ্ছিত করে।” (তিরমিজি)
“সবচেয়ে বড় সওয়াব হলো সেই দিনারের, যা কোনো ব্যক্তি তার পরিবারের (স্ত্রী-সন্তান) জন্য খরচ করে।” (সহীহ মুসলিম)
“তোমরা কুমারী নারীদের বিয়ে করো, কারণ তাদের মুখ মিষ্ট এবং তারা অল্পে তুষ্ট থাকে।” (ইবনে মাজাহ)
“বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” (সহীহ মুসলিম)
“তোমরা প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী নারীদের বিয়ে করো।” (আবু দাউদ)
“বিয়ের মাধ্যমে রিজিকের অন্বেষণ করো।” (কানজুল উম্মাল)
“মানুষের কল্যাণের কাজের মধ্যে বিবাহের মতো আর কিছু নেই।” (ইবনে মাজাহ)
“বিয়ের পূর্বে পাত্রীকে দেখে নেওয়া উত্তম, যাতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা স্থায়ী হয়।” (তিরমিজি)
“হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে।” (সহীহ বুখারি)
“বিবাহ হলো দৃষ্টিকে অবনত রাখার এবং লজ্জাস্থান হিফাজত করার সর্বোত্তম উপায়।” (সহীহ বুখারি)
“স্ত্রী স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” (সহীহ বুখারি)
“আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে কারো আনুগত্য বৈধ নয় (স্বামী হলেও)।” (সহীহ মুসলিম)
“স্বামী স্ত্রীকে ডাকলে তার আসা উচিত, এমনকি সে উনুনের কাছে ব্যস্ত থাকলেও।” (তিরমিজি)
“তোমাদের নারীদের উত্তম সদ্ব্যবহার করার জন্য তোমরা পরস্পরকে ভালো নসিহত করবে।” (সহীহ মুসলিম)
“যে নারী পরপুরুষের জন্য খুশবু মাখে, সে এমন এমন (গুনাহগার)।” (তিরমিজি)
“স্বামীকে খুশি রাখা জান্নাতে যাওয়ার সহজ পথ।” (তিরমিজি)
দ্বীনদার জীবনসঙ্গী নিয়ে ইসলামিক উক্তি
“সমগ্র দুনিয়াটাই হলো সম্পদ, আর দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো একজন নেককার স্ত্রী।” — (সহীহ মুসলিম)
“এমন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নাও, যে তোমাকে জান্নাতের পথে নিয়ে যাবে।”
📌আরো পড়ুন👉বিয়ে নিয়ে ইসলামিক ক্যাপশন
“একজন দ্বীনদার জীবনসঙ্গী কেবল আপনার দুনিয়া সুন্দর করে না, আপনার আখেরাতকেও উজ্জ্বল করে।”
“চেহারার সৌন্দর্য দেখে নয়, চরিত্রের সৌন্দর্য আর দ্বীনদারী দেখে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করো।”
“যে পুরুষ তার স্ত্রীকে সম্মান করে না, সে কখনো উত্তম হতে পারে না।”
“দ্বীনদার জীবনসঙ্গী হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিশেষ নেয়ামত।”
“তোমার জীবনসঙ্গী যদি দ্বীনদার হয়, তবে তুমি অর্ধেক ইমান পূর্ণ করে ফেললে।”
“উত্তম জীবনসঙ্গী সে-ই, যার সাথে থাকলে আল্লাহর কথা বারবার মনে পড়ে।”
“একজন নেককার স্বামী বা স্ত্রী হলো জান্নাতের পথে চলার সবচেয়ে বড় সঙ্গী।”
“দ্বীনদারীহীন সৌন্দর্য হলো সুগন্ধহীন ফুলের মতো।”
“স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেবল দুনিয়ার নয়, এটি জান্নাতের দীর্ঘ পথ চলার চুক্তি।”
“তোমার স্ত্রীর সাথে এমন আচরণ করো, যা তুমি তোমার কন্যার জন্য অন্যের কাছে আশা করো।”
“পার্থিব সম্পদ শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু জীবনসঙ্গীর আমল ও দ্বীনদারী চিরকাল থেকে যাবে।”
“দাম্পত্য জীবনে সুখ পেতে হলে একে অপরের ভুলগুলো ক্ষমা করার গুণ থাকতে হবে।”
“উত্তম স্ত্রী হলো সে, যার দিকে তাকালে স্বামীর মন খুশিতে ভরে ওঠে।”
“যদি চাও তোমার জীবনসঙ্গী তোমার প্রতি অনুগত থাকুক, তবে তুমি আল্লাহর প্রতি অনুগত হও।”
“দ্বীনদার সঙ্গী সাথে থাকলে জীবনের কঠিন পথগুলোও সহজ হয়ে যায়।”
“যে তোমাকে ফজরের নামাজের জন্য জাগিয়ে দেয়, সেই মূলত তোমার প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী সঙ্গী।”
“সবচেয়ে সুখী সেই দম্পতি, যাদের মধ্যে ভালোবাসার ভিত্তি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি।”
“ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ হলো একে অপরের জন্য তাহাজ্জুদের মোনাজাতে কাঁদা।”
“স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক, তারা একে অপরের পোশাক স্বরূপ।” — (আল কুরআন)
“বিবাহ হলো একটি ইবাদত, যদি তা আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।”
উত্তম জীবনসঙ্গী নিয়ে ইসলামিক উক্তি
“উত্তম জীবনসঙ্গী সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে ভয় করে এবং সম্পর্ককে ইবাদত মনে করে।“
“যে জীবনসঙ্গী আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়, তার সাথে জীবন কখনো অশান্ত হয় না।“
“উত্তম জীবনসঙ্গী রাগের সময়ও নিজের ঈমান ও চরিত্রকে হারায় না।“
“সৌন্দর্য নয়, তাকওয়াই উত্তম জীবনসঙ্গীর প্রকৃত পরিচয়।“
“যে জীবনসঙ্গী তোমার ঈমান বাড়ায়, সে-ই আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত।“
“উত্তম জীবনসঙ্গী নিজের অধিকার চাইবার আগে অপরের হক আদায় করে।“
“যে জীবনসঙ্গী গোপনেও বিশ্বস্ত থাকে, সে-ই ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম।“
“উত্তম জীবনসঙ্গীর ভালোবাসা সীমার ভেতর থাকে, তাই তাতে থাকে বরকত।“
“যে জীবনসঙ্গী ভুল করলে তওবা করে, আর অপরের ভুলে ক্ষমা করে—সে-ই উত্তম।“
“উত্তম জীবনসঙ্গী সংসারকে দুনিয়ার জায়গা নয়, বরং আখিরাতের প্রস্তুতিক্ষেত্র বানায়।“
“যে জীবনসঙ্গী আল্লাহর বিধান মানে, সে সম্পর্ককেও নিরাপদ রাখে।“
“উত্তম জীবনসঙ্গী কষ্টের সময় ধৈর্য ধরে, আর সুখের সময় কৃতজ্ঞ থাকে।“
“যে জীবনসঙ্গী তোমাকে নামাজ ও দ্বীনের পথে আহ্বান করে, সে-ই প্রকৃত বন্ধু।“
“উত্তম জীবনসঙ্গীর কাছে সম্পর্ক দায়িত্ব, কোনো বোঝা নয়।“
“উত্তম জীবনসঙ্গী কথা ও কাজে রাসূল ﷺ–এর সুন্নাহ অনুসরণ করে।“
“যে জীবনসঙ্গী নিজের দোষ আগে দেখে, সে সম্পর্ককে সুন্দর রাখে।“
“উত্তম জীবনসঙ্গীর নীরব আচরণেও থাকে সম্মান ও দয়া।“
“যে জীবনসঙ্গী আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার সাথে জীবন সহজ হয়ে যায়।“
“উত্তম জীবনসঙ্গী দুনিয়ার মোহ নয়, আখিরাতের সফলতাকে লক্ষ্য বানায়।“
“আল্লাহভীরু উত্তম জীবনসঙ্গী হওয়াই হলো সুখী দাম্পত্য জীবনের মূল চাবিকাঠি।“
লেখকের শেষকথা
পরিশেষে বলা যায়, ইসলামে একজন নেককার ও দ্বীনদার জীবনসঙ্গী পাওয়া কেবল ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। একটি সুন্দর ও শান্তিময় দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস। কুরআন ও হাদিসের যে অমূল্য দিকনির্দেশনাগুলো আমরা এই ব্লগে আলোচনা করেছি, তা যদি আমরা আমাদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি, তবে আমাদের ঘরগুলো হয়ে উঠবে দুনিয়ার বুকে এক টুকরো জান্নাত।
মনে রাখবেন, নিখুঁত মানুষ খুঁজে পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজে একজন উত্তম সঙ্গী হওয়া। রূপ বা সম্পদের চাকচিক্য আজ আছে কাল নেই, কিন্তু দ্বীনদারী ও সুন্দর চরিত্র চিরকাল অটুট থাকে। আশা করি, আজকের এই বাছাইকৃত ইসলামিক উক্তি, হাদিস ও কুরআনের আয়াতগুলো আপনাকে সঠিক জীবনসঙ্গী বেছে নিতে এবং দাম্পত্য জীবনে সুখের সন্ধান পেতে সাহায্য করবে।